দক্ষব্যবহারের গাইড ডেমো খুলুন

কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের জন্য

প্রতিটি কিস্তি সময়মতো, প্রতিটি বকেয়া চোখের সামনে, সনদ যায় টাকা মিটলে

এই গাইডে ছবিসহ দেখানো আছে কীভাবে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করবেন, কাগজপত্র রাখবেন, কিস্তির টাকা নিয়ে রসিদ দেবেন, বকেয়ার SMS পাঠাবেন, হাজিরা নেবেন আর সনদ ছাপবেন। সব ছবি আসল ডেমো থেকে নেওয়া। ডেমোর সেন্টার "দিগন্ত কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার" কাল্পনিক, নাম আর নম্বরগুলোও বানানো।

আজ পাতা: আজ জমা, মোট বাকি, সময় পার হওয়া টাকা আর আজ কার কাছ থেকে টাকা নিতে হবে

শুরু করার আগে

যা লাগবে

ফ্রন্ট ডেস্কে একটা কম্পিউটার আর ক্রোম ব্রাউজার। মালিক আর শিক্ষক নিজের মোবাইল থেকেই চালাতে পারবেন। আলাদা কিছু ইনস্টল করতে হয় না।

প্রিন্টার (ঐচ্ছিক)

রসিদের জন্য ৮০ মিমি থার্মাল প্রিন্টার, না থাকলে সাধারণ প্রিন্টারে A5 কাগজ। সনদ A4 রঙিন প্রিন্টারে, আইডি কার্ড পিভিসি কার্ড প্রিন্টারে বা A4-এ ছাপিয়ে কেটে নিন।

ক্যামেরা

ভর্তির সময় ছবি আর এনআইডি/জন্মনিবন্ধনের ছবি তুলতে ওয়েবক্যাম বা মোবাইলের ক্যামেরা। স্ক্যান করা ফাইল বা PDF-ও দেওয়া যায়।

SMS

আসল সংস্করণে সেন্টার নিজের SMS ব্যালেন্স কিনবে। বাংলা SMS ৭০ অক্ষরে একটা ধরা হয়, তাই আমাদের সব টেমপ্লেট ৭০ অক্ষরের মধ্যে রাখা।

কে কী করেন

কাজমালিকফ্রন্ট ডেস্কশিক্ষক
ভর্তি, টাকা জমা, রসিদ✓✓—
বকেয়ার SMS পাঠানো✓✓—
হাজিরা (QR বা হাতে)✓✓✓
৳১,০০০ এর বেশি ছাড়✓না—
রসিদ বাতিল✓——
সনদ তৈরি✓✓—

আসল অ্যাপে এই নিয়মগুলো সার্ভার নিজে রাখে: ফ্রন্ট ডেস্ক রসিদ বাতিল বা ৳১,০০০ এর বেশি ছাড় দিতে পারে না, শিক্ষক টাকার হিসাব বা কাগজপত্র দেখেন না। শিক্ষক সব ব্যাচের ক্লাস দেখতে পান। ডেমো খুললে আপনি ফ্রন্ট ডেস্কের তানিয়া, সেটিংস থেকে মালিক হলে রসিদ বাতিলের বোতাম দেখা যায়।

আসল অ্যাপে ঢোকা

এই গাইডের বেশিরভাগ ছবি ডেমো থেকে, যেখানে সব কিছু আপনার ব্রাউজারে থাকে। সেন্টারের আসল কাজ চলে daksho.shishirbd.shop/app এ, যেখানে সব তথ্য সার্ভারে জমা থাকে, প্রতি রাতে ব্যাকআপ হয়, আর এক কম্পিউটারে ভর্তি বা টাকা জমা করলে অন্য ফোনে অ্যাপ খুললেই, আর খোলা থাকলে এক মিনিটের মধ্যে দেখা যায়।

  1. মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকুন। সেন্টার চালু করার সময় মালিকের লগইন আমরা খুলে দিই।
  2. প্রথমবার ঢুকলে "শুরু করা যাক" কার্ডে তিনটা ধাপ: কোর্স আর ফি যোগ, ব্যাচ খোলা (কোন কোন দিন, কয়টায়, কয়টা পিসি), তারপর প্রথম ভর্তি।
  3. মালিক সেটিংস থেকে ফ্রন্ট ডেস্ক আর শিক্ষকের লগইন খুলে দেন। শিক্ষক শুধু ক্লাস, ব্যাচ আর হাজিরা দেখেন, টাকার কোনো হিসাব বা কাগজপত্র দেখেন না, শুধু ছাত্রের ছবি দেখেন যাতে চিনতে পারেন।
  4. কেউ চাকরি ছেড়ে দিলে সেটিংস থেকে তার লগইন "বন্ধ করুন", সাথে সাথে সে আর ঢুকতে পারবে না।
লগইন পাতা
মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড। ভুল হলে লাল লেখায় বলে দেয়।
প্রথমবার ঢোকার পর শুরু করার তিন ধাপ
নতুন সেন্টারে প্রথম পাতা: তিনটা ধাপ শেষ হলে কার্ডটা নিজে সরে যায়।

আজ পাতা

সকালে খুললেই প্রথম পাতা। ওপরে তিনটা অঙ্ক: আজ জমা (কতটা রসিদ, এ মাসে কত), মোট বাকি (কোর্স শেষ পর্যন্ত সবার কাছে যত পাওনা) আর লাল রঙে সময় পার হয়ে গেছে, মানে যে কিস্তির তারিখ চলে গেছে কিন্তু টাকা আসেনি।

  1. আজ টাকা নিতে হবে: যাদের কিস্তি আজ বা আগেই দেওয়ার কথা ছিল, সবচেয়ে পুরনো বকেয়া আগে। পাশেই কল, SMS আর "জমা নিন" বোতাম।
  2. আজকের ক্লাস: আজ যে ব্যাচগুলোর ক্লাস, সময়, শিক্ষক, ল্যাব আর কতজন। যে ক্লাস চলছে সেটা নীল দাগে আলাদা। "হাজিরা" চাপলে হাজিরা নেওয়া যায়।
  3. অটো রিমাইন্ডার: আজ সন্ধ্যা ৭টায় কতজনকে SMS যাবে, কত টাকা খরচ, আর একটা নমুনা মেসেজ। "তালিকা দেখুন" চাপলে সবার মেসেজ দেখা যায়।
  4. ফলো-আপ কল: যারা ভর্তির ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন আর আজ তাদের আবার ফোন করার কথা।
আজকের অটো রিমাইন্ডারের তালিকা
"তালিকা দেখুন" চাপলে সন্ধ্যায় কার কাছে কোন মেসেজ যাবে, আগেই দেখে নিতে পারেন।

ফ্রন্ট ডেস্ক

নতুন ভর্তি, ৫ ধাপে

বাঁ পাশের নীল "নতুন ভর্তি" বোতাম, মোবাইলে আজ পাতার ওপরে। রোল নম্বর নিজে থেকেই তৈরি হয় (যেমন DG-26-0244)। মাঝপথে পাতা রিফ্রেশ হলেও লেখা হারায় না।

১. ছাত্র/ছাত্রীর তথ্য

  1. ছবির ঘরে চাপ দিয়ে ছবি তুলুন বা ফাইল দিন। পরেও দেওয়া যায়।
  2. নাম বাংলায় আর ইংরেজিতে। ইংরেজি নামটাই সনদে ছাপা হবে, তাই বানান মিলিয়ে নিন।
  3. মোবাইল, জন্মতারিখ, লিঙ্গ। এনআইডি না থাকলে "জন্মনিবন্ধন" বেছে নিন, এটাই যথেষ্ট।
  4. পিতার নাম আর অভিভাবকের মোবাইল দিতেই হবে। বয়স ১৮ এর কম হলে পাশে লেখা ওঠে "অপ্রাপ্তবয়স্ক"। অনুপস্থিতির SMS সবসময় অভিভাবকের নম্বরে যায়।
ভর্তির প্রথম ধাপ: ছবি, নাম, মোবাইল, জন্মতারিখ
লাল তারা দেওয়া ঘরগুলো দরকারি। কিছু বাদ পড়লে ঘরের নিচে লাল লেখায় বলে দেয় কী লাগবে।

২. কোর্স ও সিট

কোর্স বাছলে সেই কোর্সের খোলা ব্যাচগুলো আসে, পাশে লেখা কয়টা সিট খালি। ব্যাচ বাছলে ল্যাবের পিসিগুলো দেখা যায়, শিক্ষকের টেবিল সামনে। ধূসর পিসিতে আগেই কেউ বসে, দাগ কাটা খালি পিসিগুলো থেকে একটা বেছে নিন। পূর্ণ ব্যাচ বাছা যায় না।

কোর্স, ব্যাচ আর ল্যাবের পিসি বাছাই
নীল ঘরটা এই ছাত্রীর পিসি, ০৯ নম্বর। কিছু বাছা না হলে "পরের ধাপ" বোতামের নিচে লেখা থাকে কী বাকি।

৩. ফি ও কিস্তি

কোর্স ফি, ভর্তি ফি আলাদা দেখায়। বিটিইবি কোর্সে বোর্ড ফিও আলাদা লাইনে, কারণ ওটা বোর্ডের টাকা। ছাড় দিলে কারণ লিখতে হয়। এরপর কিস্তির নিয়ম বাছুন (নিচের অংশে বিস্তারিত), প্রতিটি কিস্তির তারিখ আর টাকা চাইলে হাতে বদলান। শেষে "আজ কত দিচ্ছেন" আর কীভাবে: ক্যাশ, বিকাশ বা নগদ। বিকাশ/নগদে ট্রানজেকশন আইডি দিতেই হবে।

ফি, ছাড় আর কিস্তির তারিখ
কিস্তির যোগফল কোর্স ফির সমান না হলে পরের ধাপে যাওয়া যায় না, বোতামের নিচে কারণ লেখা থাকে।

৪. কাগজপত্র, ৫. দেখে নিন

কাগজপত্রের ধাপে ছবি, এনআইডি/জন্মনিবন্ধন, এসএসসি সনদ, এইচএসসি সনদ আর অভিভাবকের এনআইডি রাখার জায়গা। শেষ ধাপে সব একসাথে দেখায়, কোন কাগজ বাকি তা হলুদে লেখা। "ভর্তি সম্পন্ন করুন" চাপলেই ভর্তি হয়ে যায়, রসিদ আর আইডি কার্ড ছাপার বোতাম আসে, আর ছাত্র/ছাত্রীর কাছে ভর্তির SMS যায়।

ভর্তির আগে শেষবার দেখে নেওয়া
রোল, ব্যাচ, পিসি, ফি, কিস্তির তারিখ আর আজকের জমা এক জায়গায়।
ভর্তি সম্পন্ন
এখান থেকেই রসিদ, আইডি কার্ড বা পরের জনের ভর্তি।

কিস্তির নিয়ম

সেন্টারগুলো যেভাবে টাকা নেয়, সেই তিনভাবেই ঠিক করা যায়:

  1. অর্ধেক এখন, অর্ধেক পরে: অর্ধেক ভর্তির দিন, বাকি অর্ধেক নির্দিষ্ট ক্লাসের পর (যেমন ২২তম ক্লাস)। সপ্তাহে ৩ দিন ক্লাস ধরে তারিখটা আন্দাজ করে বসায়, দরকার হলে বদলে দিন।
  2. মাসে মাসে: কোর্স যত মাসের, তত কিস্তি, প্রতি মাসে একই তারিখে।
  3. এককালীন: পুরো টাকা ভর্তির দিন। এতে সাধারণত ছাড় দেওয়া হয়, কারণে "এককালীন পরিশোধ" লিখুন।
পরিশোধিত৩ দিনের মধ্যে দেয়সময় পারপরে দেয়

প্রতিটি নামের পাশে ছোট দাগের সারিটা হলো কিস্তি: প্রতিটি ঘর একটা কিস্তি। অর্ধেক সবুজ ঘর মানে ওই কিস্তির কিছু টাকা দিয়েছে। এক নজরে বোঝা যায় কে কতদূর দিয়েছে।

কাগজপত্র

প্রোফাইলের কাগজপত্র ট্যাবে সব কাগজ। যেটা নেই সেটা দাগ কাটা ঘরে, দরকারি হলে হলুদ লেখায় "দরকারি, এখনও নেই"। ঘরে চাপ দিলে মোবাইলে ক্যামেরা খোলে, কম্পিউটারে ফাইল বাছা যায়। ছবি নিজে থেকেই ছোট করে রাখা হয়। রাখা কাগজে চাপ দিলে বড় করে দেখা, বদলানো বা প্রিন্ট করা যায়।

কাগজপত্র ট্যাব
ট্যাবের লাল সংখ্যা বলে কয়টা দরকারি কাগজ বাকি। ছাত্রছাত্রী তালিকায় "কাগজ বাকি" ফিল্টারে এদের সবাইকে একসাথে পাবেন।

ভর্তি জিজ্ঞাসা

কেউ ফোনে বা সরাসরি জানতে চাইলে আরও → ভর্তি জিজ্ঞাসা → নতুন জিজ্ঞাসা। নাম, ফোন, কোন কোর্স, কোথা থেকে জেনেছেন আর কবে আবার ফোন করবেন লিখে রাখুন। সেদিন আজ পাতায় নামটা উঠে আসবে। "পরে" চাপলে ২ দিন পিছিয়ে যায়। তিনি ভর্তি হতে এলে "ভর্তি" চাপুন, নাম, ফোন আর কোর্স আগে থেকে বসানো ফর্ম খুলবে।

ভর্তি জিজ্ঞাসার তালিকা
লাল লেখা মানে ফোন করার দিন পার হয়ে গেছে।

ছাত্র/ছাত্রীর প্রোফাইল

যেকোনো নামে চাপ দিলে প্রোফাইল। ওপরে ছবি, রোল, ব্যাচ, ক্লাসের সময় আর পিসি নম্বর। তার নিচে টাকার বাক্স: কোর্স ফি, জমা, বাকি আর সময় পার হওয়া টাকা, সাথে কিস্তির দাগ। বকেয়া থাকলে বাক্সের বাঁ দিকে লাল দাগ আর লেখা থাকে কোন কিস্তি কত দিন পার।

  1. কিস্তি ও পেমেন্ট: প্রতিটি কিস্তি, তারিখ আর অবস্থা, নিচে সব রসিদ।
  2. তথ্য: ভর্তির ফর্মের সব তথ্য।
  3. কাগজপত্র, উপস্থিতি: রাখা কাগজ আর প্রতিটি ক্লাসের হাজিরা।
  4. মেসেজ ও ইতিহাস: কবে কত টাকা দিয়েছে, কে নিয়েছে, কবে কোন SMS গেছে।
ছাত্রের প্রোফাইল
ডানে সনদের অবস্থা আর অভিভাবকের নম্বর। বকেয়া থাকলে লেখা থাকে "সনদ আটকে আছে"।

ফ্রন্ট ডেস্ক

টাকা জমা ও রসিদ

  1. প্রোফাইলে, আজ পাতায় বা বকেয়ায় "টাকা জমা নিন" চাপুন। যত বকেয়া, সেটা আগে থেকে বসানো থাকে। "পুরো বাকি" চাপলে কোর্সের সব বাকি টাকা।
  2. ক্যাশ, বিকাশ বা নগদ বাছুন। বিকাশ/নগদ হলে মোবাইলে আসা মেসেজ থেকে ট্রানজেকশন আইডি লিখুন। পরে মোবাইলের হিসাবের সাথে মেলাতে এটাই কাজে লাগে।
  3. ধূসর বাক্সে দেখায় টাকাটা কোন কিস্তিতে যাবে আর এরপর কত বাকি থাকবে। কিস্তির চেয়ে বেশি দিলে বাড়তিটা পরের কিস্তিতে চলে যায়।
  4. "জমা করুন" চাপলে রসিদ খোলে। ৮০ মিমি থার্মাল বা A5 বেছে প্রিন্ট করুন। চাইলে রসিদ SMS-এও যায়।
টাকা জমার ফর্ম, বিকাশ আর ট্রানজেকশন আইডি
৳৩,০০০ এর মধ্যে ৪র্থ কিস্তি পুরো, ৫ম কিস্তির ৳১,০০০।
রসিদ
রসিদে নম্বর, মাধ্যম, ট্রানজেকশন আইডি, মোট বাকি আর পরের কিস্তির তারিখ।

মালিক

ভুল রসিদ বাতিল

রসিদ কখনো মুছে ফেলা যায় না, যাতে হিসাবে কেউ হাত দিতে না পারে। ভুল হলে মালিক রসিদ খুলে "বাতিল" চাপেন আর কারণ লেখেন। বাতিল রসিদ তালিকায় কাটা দাগে থেকে যায়, টাকাটা আবার বাকিতে ফিরে আসে। ফ্রন্ট ডেস্কের কাছে বাতিলের বোতাম থাকে না।

বকেয়া

ওপরের চারটা ঘর একসাথে হিসাব আর ফিল্টার: ৩ দিনের মধ্যে দেয়, ১–৭ দিন পার, ৮–৩০ দিন পার আর ৩০ দিনের বেশি। প্রতিটায় মোট টাকা আর কতজন। যে ঘরে চাপবেন, নিচে তাদের তালিকা, সবচেয়ে পুরনো বকেয়া আগে।

  1. একজনকে কল, SMS বা টাকা জমা: সারির ডান পাশের বোতাম।
  2. কয়েকজনকে একসাথে: বাঁ পাশের ঘরে টিক দিন, বা "সবাইকে বেছে নিন"। নিচে কালো পট্টিতে কতজন আর মোট কত, পাশে "সবাইকে SMS"।
  3. "এক্সেল" চাপলে পুরো বকেয়া তালিকা এক্সেল ফাইলে নামে।
বকেয়া পাতা
কত দিন পার, তা লাল লেখায় প্রতিটি নামের পাশে।
কয়েকজন বেছে নেওয়া
টিক দিলেই নিচে একসাথে SMS পাঠানোর পট্টি।

SMS ও অটো রিমাইন্ডার

SMS লেখার সময় নিচে দেখায় কত অক্ষর, কয়টা SMS কাটবে আর কত টাকা। বাংলা SMS ৭০ অক্ষরে একটা। ৭১তম অক্ষর হলেই প্রতিজনের দুটো কাটে, তখন দাগটা হলুদ হয়ে সতর্ক করে। {নাম}, {টাকা}, {তারিখ} এর জায়গায় প্রত্যেকের নিজের নাম আর টাকা বসে যায়, ফোনের মতো ঘরে দেখতে পাবেন মেসেজটা কেমন দেখাবে।

একসাথে SMS লেখা, অক্ষর আর খরচের হিসাব
৪ জনকে, প্রতিজনের ১টা SMS। খরচ পাঠানোর আগেই দেখা যায়।

মেসেজ পাতায় অটো রিমাইন্ডারের নিয়ম: কিস্তির কত দিন আগে, কিস্তির দিন, তারিখ পার হলে কত দিন পর, তারপর প্রতি কত দিনে আবার। সব অটো SMS সন্ধ্যা ৭টায় যায়, রাতে কিছু যায় না। এখানে টেমপ্লেটগুলো, প্রতিটির অক্ষর সংখ্যা, SMS ব্যালেন্স আর পাঠানো সব মেসেজের তালিকাও আছে।

মেসেজ পাতা: টেমপ্লেট, অটো রিমাইন্ডারের নিয়ম
প্রতিটি টেমপ্লেট এক SMS এর মধ্যে, সবুজ লেখায় অক্ষর সংখ্যা।

মালিক

দিনের হিসাব মেলানো

আরও → হিসাব। দিনের মোট জমা, ক্যাশ, বিকাশ আর নগদ আলাদা করে, নিচে সব রসিদ। ডানে ক্যাশ মেলানো: দিনের শুরুতে ড্রয়ারে যা ছিল, ক্যাশে জমা, খরচ বাদ দিয়ে ড্রয়ারে এখন কত থাকার কথা। বিকাশ আর নগদের টাকা মোবাইলে আসে, সেটা মোবাইলের ব্যালেন্সের সাথে মেলান। "+ খরচ যোগ" দিয়ে চা-নাস্তা, বিল, কালি এসব লিখে রাখুন। তীর চিহ্ন দিয়ে আগের দিনের হিসাব দেখা যায়।

হিসাব পাতা
ড্রয়ারের টাকা না মিললে রসিদগুলো একটা একটা মিলিয়ে দেখুন।
খরচ যোগ
খাতের নাম লিখতে শুরু করলেই আগের খাতগুলো দেখায়।

ব্যাচ ও ল্যাবের সিট

আরও → ব্যাচ ও কোর্স। চলমান, শীঘ্রই শুরু আর শেষ হওয়া ব্যাচ আলাদা। প্রতিটি কার্ডে সময়, শিক্ষক, ল্যাব, কত সিট ভরা আর কতজন বকেয়া। নিচে সব কোর্স, ফি আর কিস্তির সংখ্যা।

ব্যাচের তালিকা
দাগটা ভরে গেলে হলুদ হয়, মানে ব্যাচ পূর্ণ।

ব্যাচে চাপ দিলে ল্যাবের নকশা: প্রতিটি পিসিতে কে বসে। নিচে লাল দাগ মানে ওই ছাত্র/ছাত্রীর বকেয়া আছে। দাগ কাটা খালি পিসিতে চাপ দিলে সেই পিসি বেছে ভর্তির ফর্ম খোলে। বিটিইবি ব্যাচে ওপরে লেখা থাকে ট্রেডে কতজন (কমপক্ষে ৫, সর্বোচ্চ ৫০) আর কতজনের বোর্ড রেজিস্ট্রেশন বাকি।

ব্যাচের ল্যাব নকশা
শিক্ষকের টেবিল সামনে, পিসির নম্বর ল্যাবের মতোই সাজানো।

শিক্ষক বা ফ্রন্ট ডেস্ক

QR দিয়ে হাজিরা

প্রতিটি আইডি কার্ডে একটা QR কোড থাকে। ক্লাসের দরজায় শিক্ষক ফোনে হাজিরা খুলে কার্ডগুলো ক্যামেরার সামনে ধরেন, এক একটা কার্ডে এক সেকেন্ড। আলাদা কোনো যন্ত্র লাগে না।

  1. ফোনে নিচের হাজিরা ট্যাব, বা আজ পাতায় ক্লাসের পাশে স্ক্যান। এখন যে ক্লাসের সময়, সেটা নিজে বাছা থাকে।
  2. "ক্যামেরা চালু করুন" চাপুন, প্রথমবার ব্রাউজার অনুমতি চাইবে। পরের বার থেকে নিজে চালু হয়।
  3. কার্ড ধরলেই সবুজ পট্টিতে নাম, ছবি আর "কতজন এসেছে" দেখায়, সাথে একটা বিপ। ক্লাস শুরুর ১৫ মিনিট পরে এলে হলুদে "দেরিতে এসেছে"। একই কার্ড আবার ধরলে ধূসরে "আগেই হাজিরা হয়েছে", দুবার গোনা হয় না।
  4. চেনা না গেলে লাল: পুরনো বা অন্য সেন্টারের কার্ড। আজ যার ক্লাস নেই, সে এলে জিজ্ঞেস করে "তবুও আজ উপস্থিত ধরুন?"।
  5. কার্ড আনেনি? নিচের তালিকায় নামের পাশে "আছে" চাপুন, বা রোল নম্বর লিখুন। ফ্রন্ট ডেস্কে USB বারকোড স্ক্যানার থাকলে ঘরে ক্লিক করে স্ক্যান করলেই হয়।
  6. ক্লাস শুরু হয়ে গেলে "হাজিরা শেষ করুন"। যারা স্ক্যান হয়নি তারা অনুপস্থিত হয়, আর তখনই অভিভাবকের কাছে SMS যায়: "রাকিব আজ ক্লাসে আসেনি।" হাজিরা শেষ না করা পর্যন্ত কোনো SMS যায় না, তাই ভুল করে কারো বাসায় মেসেজ যাবে না।
QR স্ক্যান, উপস্থিত দেখাচ্ছে
কার্ড ধরার সাথে সাথে নাম আর ছবি।
হাজিরা শেষ
নিচের তালিকায় কে কখন এল।

নেট চলে গেলেও স্ক্যান থামে না: হাজিরা ফোনে রাখা থাকে, নেট এলে নিজে জমা হয়। যতক্ষণ এমন হাজিরা বাকি, "হাজিরা শেষ" চাপা যায় না। কার্ড হারালে প্রোফাইল থেকে আইডি কার্ড খুলে "নতুন QR" চাপুন, পুরনো কার্ড আর চলবে না।

শিক্ষক

হাতে হাজিরা

QR ছাড়াও হাজিরা নেওয়া যায়। ব্যাচ পাতায় "হাতে হাজিরা"। সবাই উপস্থিত ধরা থাকে, শুধু যারা আসেনি তাদের নামে চাপ দিন, ঘরটা লাল হয়ে "নেই" দেখাবে। নিচের সুইচ চালু থাকলে অনুপস্থিতদের অভিভাবকের কাছে SMS যায়: "রাকিব আজ ক্লাসে আসেনি।" সেভ করার পর আজ পাতায় লেখা ওঠে "হাজিরা নেওয়া"।

হাজিরা নেওয়া
২০ জনের ক্লাসে সাধারণত ২–৩টা চাপেই হাজিরা শেষ।

সনদ ও যাচাই

আরও → সনদ। তিনটা তালিকা: দেওয়ার জন্য তৈরি (কোর্স শেষ, কোনো বকেয়া নেই), বকেয়ার জন্য আটকে আর দেওয়া হয়েছে। বকেয়া থাকলে সনদ তৈরিই করা যায় না, পাশেই "জমা নিন" বোতাম।

  1. "সনদ তৈরি" চাপুন, গ্রেড বাছুন। সনদ নম্বর নিজে থেকে বসে (যেমন DG-C-0087), পরে বদলানো যায় না।
  2. A4 আড়াআড়ি রঙিন প্রিন্ট করুন। সনদে বাংলা আর ইংরেজি নাম, কোর্সের ঘণ্টা, ব্যাচের তারিখ, গ্রেড আর একটা QR কোড।
  3. যে কেউ (চাকরিদাতাও) QR স্ক্যান করলে যাচাইয়ের পাতা খোলে: সনদ আসল কিনা, নাম, কোর্স, গ্রেড আর তারিখ। ভুল নম্বরে লেখা আসে "সনদ পাওয়া যায়নি"।
সনদের নমুনা
সনদের বাঁ কোণে QR আর সনদ নম্বর, মাঝে সিল, ডানে পরিচালকের স্বাক্ষরের জায়গা।
সনদ যাচাইয়ের পাতা
QR স্ক্যান করলে এই পাতা খোলে।
বকেয়ার জন্য আটকে থাকা সনদ
কোর্স শেষ কিন্তু টাকা বাকি, তাই সনদ আটকে।

আইডি কার্ড

প্রোফাইলে বা ভর্তির পর "আইডি কার্ড"। সাধারণ আইডি কার্ডের মাপ (৫৪ × ৮৬ মিমি): সেন্টারের নাম, ছবি, রোল, কোর্স, ব্যাচ, ক্লাসের সময়, মেয়াদ, রক্তের গ্রুপ আর QR। ছবি না দিলে নামের প্রথম অক্ষর বসে।

আইডি কার্ড
পিভিসি কার্ড প্রিন্টার না থাকলে A4-এ ছাপিয়ে কেটে লেমিনেট করে নিন।

সেটিংস ও এক্সেল

সেটিংসে সেন্টারের নাম, ঠিকানা, ফোন, বিটিইবি কোড। এক্সেলে নামান থেকে ছাত্রছাত্রী আর পেমেন্টের তালিকা ফাইলে নেওয়া যায়, এক্সেলে বাংলা ঠিকঠাক খোলে। থিমে আলো বা অন্ধকার, সন্ধ্যার ব্যাচে অন্ধকার চোখে আরাম দেয়।

সেটিংস
ডেমোতে এখান থেকেই মালিক, ফ্রন্ট ডেস্ক বা শিক্ষক হিসেবে দেখুন।

মোবাইলে

একই লিংক মোবাইলে খুললে নিচে পাঁচটা ট্যাব: আজ, ছাত্রছাত্রী, বকেয়া, মেসেজ আর আরও। লাল সংখ্যা মানে কতজনের বকেয়া বা কতজনকে ফোন করার আছে। মালিক বাসা থেকেই দেখতে পারেন আজ কত জমা হলো। ক্রোমের মেনুতে "Add to Home screen" দিলে অ্যাপের মতো আইকন থাকবে।

মোবাইলে আজ পাতা
মোবাইলে বকেয়া
মোবাইলে প্রোফাইল
মোবাইলে আরও

কিবোর্ড

/নাম, রোল বা ফোন খুঁজুন
Ctrl Kখোঁজা
Nনতুন ভর্তি
↑ ↓খোঁজার ফলে ওঠা-নামা
Enterখুলুন
Escবন্ধ করুন

ডেমো নিয়ে

ওপরের হলুদ পট্টিতে তিনটা বোতাম:

  1. +১ দিন / +৭ দিন: ডেমোর তারিখ সামনে এগোয়। দেখবেন কিস্তি "৩ দিনের মধ্যে" থেকে "সময় পার" হচ্ছে আর অটো রিমাইন্ডারের তালিকা বদলাচ্ছে।
  2. নতুন করে শুরু: সব নমুনা ডেটা আগের মতো হয়ে যায়।

ডেমোতে QR হাজিরা নেই, কারণ সেটা আসল কার্ড আর সার্ভার দিয়ে চলে। সেটা দেখতে আসল অ্যাপে ঢুকুন।

ডেমোতে যা লিখবেন তা শুধু আপনার নিজের ব্রাউজারে থাকে, অন্য কেউ দেখে না, সার্ভারে যায় না। কোনো SMS বা কল আসলে যায় না। নতুন ব্যাচ খোলা আর SMS ব্যালেন্স রিচার্জ আসল সংস্করণে আসবে।

যাচাইয়ের তালিকা

ডেমোতে এই ১০টা কাজ নিজে করে দেখুন। টিক দিলে মনে থাকে।

প্রশ্ন-উত্তর

ইন্টারনেট চলে গেলে কী হবে?

QR হাজিরা নেট ছাড়াও চলে: স্ক্যানগুলো ফোনে রাখা থাকে, আসল সময়সহ, নেট এলে নিজে জমা হয়। খোলা পাতায় আগে থেকে আসা তথ্য দেখা যায়। কিন্তু ভর্তি আর টাকা জমা নিতে নেট লাগে, নেট না থাকলে অ্যাপ বলে দেয়, কিছু হারায় না।

এক ছাত্র দুইটা কোর্সে ভর্তি হলে?

এখন দ্বিতীয় কোর্সের জন্য নতুন করে ভর্তি করতে হয়, তাতে নতুন রোল হয়, কিস্তি আর সনদ আলাদা থাকে। একই প্রোফাইলে দ্বিতীয় কোর্স যোগ করার ব্যবস্থা এখনও বানানো হয়নি।

ছাত্র কোর্স ছেড়ে দিলে?

তালিকায় "বাদ" হয়ে থাকে, তার বকেয়া আর হিসাবে ধরা হয় না, কিন্তু সব রসিদ আর তথ্য রয়ে যায়।

বিটিইবি বোর্ড ফি কীভাবে রাখব?

বোর্ড ফি কোর্স ফি থেকে আলাদা লাইনে থাকে, কারণ ওটা বোর্ডকে দিতে হয়। প্রোফাইলে বোর্ড রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ঘর আছে, ব্যাচ পাতায় দেখায় কতজনের রেজিস্ট্রেশন বাকি।

পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে?

স্টাফের পাসওয়ার্ড মালিক সেটিংস → লগইন থেকে নতুন করে বসিয়ে দেন। মালিক নিজে ভুলে গেলে আমাদের জানান, আমরা নতুন পাসওয়ার্ড বসিয়ে দিই।

SMS-এর খরচ কে দেবে?

সেন্টার নিজের SMS ব্যালেন্স কিনবে, প্রতি SMS সাধারণত ২৮–৫৫ পয়সা। নিজের নামে (যেমন DIGANTA) পাঠাতে চাইলে আলাদা অনুমোদন লাগে, তাতে ৩–৫ দিন সময় লাগে।

ডেটা হারাবে না তো?

আসল অ্যাপে প্রতি রাতে সার্ভারে ব্যাকআপ হয়, শেষ ১৪ দিনের ব্যাকআপ রাখা থাকে। যেকোনো সময় সেটিংস থেকে এক্সেলে সব নামিয়ে নিজের কাছেও রাখতে পারবেন। ডেমোর ডেটা শুধু আপনার ব্রাউজারে থাকে।